তাবলীগের প্রতি সৌদির নিষেধাজ্ঞার জবাবে যা বললেন মুফতি তাকি উসমানি
বিশ্বনন্দিত আলেম, স্কলার, পাকিস্তানের সাবেক বিচারপতি আল্লামা তাকি উসমানী সম্প্রতি সৌদি আরবে তাবলীগের বিরুদ্ধে জারি করা প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন, সেখানে তিনি তাবলীগের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, আল্লাহ তায়ালা ইলিয়াস রহ. এর অন্তরে একটি আগুন প্রজ্বলিত করে দিয়েছিলেন যার বদৌলতে তাবলীগ জামাতের ন্যায় এমন একটি দ্বীনি মেহনত চালু হয়েছে যার মাধ্যমে দুনিয়ার কোণায় কোণায় আল্লাহপাকের দ্বীনের পয়গাম পৌঁছে গিয়েছে।
আমি (তাকী উসমানী) মনে করি এই সময়ে সাধারণ মুসলমানের জন্য দাওয়াতের এই মেহনতের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। বাকি কিছু মন্দ বিষয় যেগুলো প্রচলিত রয়েছে সেগুলো কিছু না কিছু থাকবেই যা সবসময় টেনে আনলে চলবে না কারণ আসমানের নীচে আর জমিনের উপরে আম্বিয়ায়ে কিরামের মতো নিষ্পাপ কেউ নেই।
তারা ব্যতীত আমাদের সবারই কমবেশি ভুলত্রুটি রয়েছে। দেখার বিষয় হচ্ছে এখানে উপকারের সংখ্যা বেশি হচ্ছে নাকি ক্ষতির সংখ্যা বেশি? আলহামদুলিল্লাহ্ উপকারের সংখ্যা অনেক বেশি। এখানে গিয়ে মানুষ নিজেও দ্বীন শিখছে, আমলের প্রতি জযবা তৈরি হচ্ছে এবং অপরকেও এই দাওয়াত পৌঁছানোর দ্বারা বৃহৎ সংখ্যক মানুষ ফায়দা পাচ্ছে। তাই সাধারণ মুসলমানের জন্য এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকা খুব উপকারী। আল্লাহপাক তৌফিক দান করুন।
এদিকে সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাবলীগ জামাতের বিরুদ্ধে প্রচারণা ও নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের কারণে দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতী আবুল কাসেম নূমানী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. দারুল উলূম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসীন শাইখুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী রহ.-এর অন্যতম ছাত্র ছিলেন।
তিনিই তাবলীগ জামাত প্রতিষ্ঠা করেন। যার অধীনে বড়দের নিষ্ঠাপরায়ণ চেষ্টা ও মেহনত দ্বীনি ও আমলী ক্ষেত্রে উপকার বয়ে আনছে। শাখাগত মতভেদ সত্ত্বেও তাবলীগ জামাত নিজের মিশনে কাজ করে যাচ্ছে। প্রায় গোটা বিশ্বেই তাদের কাজ ছড়িয়ে আছে। এর সাথে যুক্ত সদস্য ও জামাতের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর শিরক, বিদআত ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
দারুল উলূম দেওবন্দ এর নিন্দা জানাচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি সরকারের কাছে আবেদন করছে, তারা যেন নিজেদের এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন এবং তাবলীগ জামাতের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রচারণা থেকে বিরত থাকেন।
অপর দিকে তাবলিগী কাজ সম্পর্কে উপমহাদেশীয় আলেমদের সাথে কথা বলে মন্তব্য করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর সভাপতি, মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশ-এর আমীর ও যাত্রাবাড়ী মাদরাসার মুহতামিম মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান।



0 Comments:
Post a Comment