মুসলিম বোনদের প্রতি খোলা চিঠি

প্রিয় বোন, বিশ্বাস কর তোমার সমালোচনা করা আমার অভিপ্রায় নয়। তোমাকে মন্দ ঠাওরানোতেও কোনো লাভ নেই আমার। পর্দা মেনে চল বা না চল, যেহেতু তোমার মাঝে ঈমান আছে তাই তুমি আমার বোন। গোঁড়ায় আমাদের বাবা ও মা অভিন্ন। আমাদের বিশ্বাস ও আদর্শ অভিন্ন। যে দেশ বা যে ধর্মেরই হও না কেন আদি পিতার এ সম্পর্ক নস্যাৎ করে সাধ্য কার? আমার মিনতি, কথাগুলোর ওপর একবার চোখ বুলাও। একটুখানি ভেবে দেখ খোলা মনে। ভেবো না পৃথিবী আজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সাফল্য ও সমৃদ্ধির শীর্ষ চূড়ায় উপনীত হয়েছে। ধূলির ধরা ছাড়িয়ে মানুষ এখন পৌঁছে গেছে নানা গ্রহে-উপগ্রহে। সারা বিশ্ব এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। সুতরাং এখন পর্দা করা মানে মধ্যযুগে ফিরে যাওয়া! পর্দা করা মানে নিজেকে বঞ্চিত করা! আমাদের মুক্তি নারী স্বাধীনতায়! মুক্তি ইসলাম উপেক্ষায়! ইতিহাস পড়ে দেখ, ইসলামই সর্বপ্রথম নারীকে মুক্তি দিয়েছে। নারীকে ভোগের পণ্য হতে দেয়নি শান্তির ধর্ম ইসলাম। একমাত্র ইসলামই কন্যা সন্তান প্রতিপালনে পুরষ্কার ঘোষণা করেছে। ইসলামই পুরুষের চারিত্রিক শুচিতা যাচাইয়ে স্ত্রীর সাক্ষ্যের কথা বলেছে। ইসলামে কোনো সুযোগ রাখা হয়নি মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে বউ নিয়ে সুখে থাকার অথবা জন্মের পর থেকে নিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত কোনো পর্বে মাকে অবমূল্যায়ন করার। স্ত্রী, কন্যা ও মাতা-নারী জীবন তো এর বাইরে নয়। এ ক্ষেত্রত্রয়ের কোনোটিতেই ইসলামের চেয়ে বেশি দিতে পারেনি কোনো ধর্ম বা কোনো জাতি। আমার ভার্সিটিপড়ুয়া কিংবা কর্মজীবী বোন, তুমি পাশ্চাত্যের মেকি স্বাধীনতায় প্রবঞ্চিত হয়ো না। স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর ‘হৃদয়কাড়া’ চিত্র দেখে ধোঁকায় পড়ো না। নাটক-সিনেমা আর ইউরোপ-আমেরিকার সুখের ছবি দেখে নিজেকে হতভাগী ভেবো না। পশ্চিমা সমাজের একটু ভেতরের খবর নিলেই জানতে পারবে বাস্তব অবস্থা। যারা নিয়মিত খবরের কাগজ পড়ে তাদের জিজ্ঞেস করে দেখ-প্রায়ই পত্রিকায় সংবাদ আসছে পশ্চিমা তরুণীরা স্বাধীনতার (!) শেকলে হাঁপিয়ে উঠেছে। তাদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের হার সবচেয়ে বেশি। Daughter of another নামক একটি বইয়ে (কয়েক বছর আগে ঢাকা থেকে ‘অন্যপথের কন্যারা’ নামে বইটির অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে) চল্লিশজন মার্কিন তরুণীর কথিত নারী স্বাধীনতা পরিহার করে পর্দার ধর্ম ইসলামে আগমনের ইতিবৃত্ত তুলে ধরা হয়েছে। তারা সবাই নারী স্বাধীনতার স্বরূপ প্রত্যক্ষ করেছেন। এ স্বাধীনতাকে তারা কৃত্রিমতা ও প্রবঞ্চনা এবং ইসলামের পর্দার বিধানকে মুক্তি ও সুরক্ষা বলে আখ্যায়িত করেছেন। ব্রিটেনের সান ডে এক্সপ্রেস পত্রিকার মহিলা সাংবাদিক রিডলি-যিনি আফগানিস্তানে বোরখা সম্পর্কে তালেবানদের ভূমিকার কঠোর সমালোচক ছিলেন তিনিই কিন্তু পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে ইসলামের পর্দার ছায়াকে শান্তির ঠিকানা বানিয়ে নিয়েছেন। ভারতে খোলামেলা লেখালেখির জন্য আলোচিত মালায়াম ও ইংরেজি ভাষার লেখিকা কমলা দাস এখন ইসলাম গ্রহণ করে পর্দা করছেন। এমন নজির একটি দু’টি নয় অনেক। এদের সবাই ‘সুশিক্ষিতা’। এরা কেউ আবেগের বশে বা চাপে পড়ে ইসলাম কবুল করেননি। উচ্চাভিলাষী বোন আমার, ইসলামের সীমানায় থেকে তুমি সবই করতে পার। যদি পড়তে চাও তবে যত ইচ্ছে পড়তে পার। প্রয়োজন হলে কর্মজীবী হয়ে কাজও করতে পার। শুধু পর্দা লঙ্ঘন করো না। শরীয়তের গণ্ডী অতিক্রম করো না। মনে রেখো, ইসলাম তোমার অগ্রযাত্রায় বাধা নয়। পর্দাও অন্তরায় নয় প্রগতির পথে। ইসলাম চায় তুমি যেখানেই থাক তোমার সতীত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব এবং সম্মান রক্ষা হোক। তোমার কোমলতা, সৌন্দর্য এবং ভদ্রতা বজায় থাকুক। ইসলাম তোমাকে বন্দী করতে ইচ্ছুক নয়। কোনো চরিত্রহীন যেন তোমাকে কলঙ্কিত না করতে পারে, ছলে-বলে-কৌশলে তোমাকে অপমানিত না করতে পারে-এই ইসলামের অন্বেষা। আমার স্কুল-কলেজগামী বোন, বখাটেদের ইভটিজিং থেকে বাঁচতে চাও? এসো পর্দার আশ্রয়ে। অমানুষদের এসিড সন্ত্রাস থেকে বাঁচতে চাইলেও এসো পর্দার নিরাপত্তায়। যৌতুক তোমাকে দিতে হবে না; বরং নগদ মোহরানা দিয়ে তোমাকে নিয়ে যেতে বাধ্য হবে যদি তুমি হিজাবে সুশোভিত হও। এ আমার দাবি নয়; বাস্তবতা। পরিসংখ্যান দেখলেই জানতে পারবে পর্দানশীনদের অল্পজনই এসব অমানবিকতার শিকার হয়। বোন, আধুনিকতার নামে তুমি নিজেকে অসম্মান ও অনিরাপদ করো না। হেদায়েতের আলোক বঞ্চিতদের প্রচার-প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত হয়ো না। ওরা বুঝাতে চায়, সভ্যতা ও বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উৎকর্ষের এই যুগে আবার ধর্ম কেন? সভ্যতাগর্বী এসব মানুষের অপপ্রচারে তুমি প্রভাবিত হয়ো না। ওরা জানে না এর আগেও পৃথিবীতে তাদের মতো সভ্যতাগর্বী জাতি ছিল। তারা আজ কোথায়? বল, তাজ মহল এবং পিরামিড যারা গড়েছে তাদের কেউ কি পৃথিবীতে বেঁচে আছে? দয়াময় আল্লাহ কত সুন্দর করে ইরশাদ করেছেন-অর্থ: ‘তারা কি ভ্রমণ করেনি, তাহলে তারা দেখতে, পূর্ববর্তীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল? তারা পৃথিবীতে ছিল তাদের চেয়ে সংখ্যায় অধিক। আর শক্তিতে ও কীর্তিতে তাদের চেয়ে অধিক প্রবল। অতঃপর তারা যা অর্জন করত তা তাদের কাজে আসেনি।’ (সূরা মুমিন : ৮২) প্রিয় বোন, তুমি কি জান বেপর্দার কুফল কী? পর্দার প্রতি যত অবহেলা করা হচ্ছে নারীর প্রতি সহিংসতা ততই বাড়ছে। জাতি হিসেবে আজ আমরা আগের চেয়ে বেশি শিক্ষিত। কিন্তু নারীর প্রতি সামাজিক অনাচার বেড়েছে না কমেছে? নিত্যনতুন পন্থায় নারীর উপর নির্যাতন করা হচ্ছে। পর্দা লঙ্ঘনই অবৈধ যৌন সম্পর্কের প্রথম ধাপ আর এই অবৈধ মেলামেশাই যে নিশ্চিত মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে আসে, এইডস-এর মতো নানা রোগ ডেকে আনে, তা বোঝার জন্য তো মুসলিম হওয়ারও প্রয়োজন নেই। অতএব এসো মুক্তির পতাকাতলে। নিরাপত্তার সুরক্ষিত গণ্ডীতে। পর্দা শুধু তোমার ইহকালীন জীবনকে নিরাপদই করবে না, নিশ্চিত করবে তোমার সম্মান ও সমৃদ্ধি। আর আখিরাতে নাজাত পাবে তুমি জাহান্নামের কল্পনাতীত শাস্তি থেকে। চিরশান্তির ঠিকানা জান্নাত হবে তোমার আবাস। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দিন। আমীন।

তাবলীগের প্রতি সৌদির নিষেধাজ্ঞার জবাবে যা বললেন মুফতি তাকি উসমানি

বিশ্বনন্দিত আলেম, স্কলার, পাকিস্তানের সাবেক বিচারপতি আল্লামা তাকি উসমানী সম্প্রতি সৌদি আরবে তাবলীগের বিরুদ্ধে জারি করা প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন, সেখানে তিনি তাবলীগের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, আল্লাহ তায়ালা ইলিয়াস রহ. এর অন্তরে একটি আগুন প্রজ্বলিত করে দিয়েছিলেন যার বদৌলতে তাবলীগ জামাতের ন্যায় এমন একটি দ্বীনি মেহনত চালু হয়েছে যার মাধ্যমে দুনিয়ার কোণায় কোণায় আল্লাহপাকের দ্বীনের পয়গাম পৌঁছে গিয়েছে। আমি (তাকী উসমানী) মনে করি এই সময়ে সাধারণ মুসলমানের জন্য দাওয়াতের এই মেহনতের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। বাকি কিছু মন্দ বিষয় যেগুলো প্রচলিত রয়েছে সেগুলো কিছু না কিছু থাকবেই যা সবসময় টেনে আনলে চলবে না কারণ আসমানের নীচে আর জমিনের উপরে আম্বিয়ায়ে কিরামের মতো নিষ্পাপ কেউ নেই। তারা ব্যতীত আমাদের সবারই কমবেশি ভুলত্রুটি রয়েছে। দেখার বিষয় হচ্ছে এখানে উপকারের সংখ্যা বেশি হচ্ছে নাকি ক্ষতির সংখ্যা বেশি? আলহামদুলিল্লাহ্‌ উপকারের সংখ্যা অনেক বেশি। এখানে গিয়ে মানুষ নিজেও দ্বীন শিখছে, আমলের প্রতি জযবা তৈরি হচ্ছে এবং অপরকেও এই দাওয়াত পৌঁছানোর দ্বারা বৃহৎ সংখ্যক মানুষ ফায়দা পাচ্ছে। তাই সাধারণ মুসলমানের জন্য এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকা খুব উপকারী। আল্লাহপাক তৌফিক দান করুন। এদিকে সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাবলীগ জামাতের বিরুদ্ধে প্রচারণা ও নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের কারণে দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতী আবুল কাসেম নূমানী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. দারুল উলূম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসীন শাইখুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী রহ.-এর অন্যতম ছাত্র ছিলেন। তিনিই তাবলীগ জামাত প্রতিষ্ঠা করেন। যার অধীনে বড়দের নিষ্ঠাপরায়ণ চেষ্টা ও মেহনত দ্বীনি ও আমলী ক্ষেত্রে উপকার বয়ে আনছে। শাখাগত মতভেদ সত্ত্বেও তাবলীগ জামাত নিজের মিশনে কাজ করে যাচ্ছে। প্রায় গোটা বিশ্বেই তাদের কাজ ছড়িয়ে আছে। এর সাথে যুক্ত সদস্য ও জামাতের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর শিরক, বিদআত ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দারুল উলূম দেওবন্দ এর নিন্দা জানাচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি সরকারের কাছে আবেদন করছে, তারা যেন নিজেদের এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন এবং তাবলীগ জামাতের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রচারণা থেকে বিরত থাকেন। অপর দিকে তাবলিগী কাজ সম্পর্কে উপমহাদেশীয় আলেমদের সাথে কথা বলে মন্তব্য করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর সভাপতি, মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশ-এর আমীর ও যাত্রাবাড়ী মাদরাসার মুহতামিম মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান।

পান ও জর্দা খাওয়া কি জায়েয? কিছু অসাড় যুক্তি ও খণ্ডন ।

আমাদের সমাজে অনেকেই পান অথবা জর্দা খাওয়াকে হারাম বলে থাকেন। তবে ওলামায়ে কিরামের সর্বসম্মত অভিমত হল, পান ও জর্দা খেতে কোন সমস্যা নেই। পান বা জর্দা কোনটিই মাদকদ্রব্য নয়। যারা জর্দাকে মাদকদ্রব্য বলেন, তারা অসত্য কথা বা ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন। যদি এটি মাদকদ্রব্য হতো, তাহলে তা ক্রয় বিক্রয় ও বাজারজাত করা আইনগত নিষিদ্ধ হতো। এ সম্পর্কে কিছু অসাড় যুক্তি ও তার জবাব জেনে নেয়া যাক : জর্দা নিষিদ্ধ খমর তথা মদের সংজ্ঞায় পড়ে না। সেই সাথে মাদক হিসেবেও স্বীকৃত নয়। যারা জর্দা খাওয়াকে হারাম বলতে চান, তারা সরাসরি কুরআন ও হাদীস থেকে সরাসরি কোন দলীল না দিতে পারলেও কতিপয় অসাড় যুক্তি পেশ করে থাকেন। আমরা সেসব যুক্তিগুলো একটু জেনে নেইঃ যুক্তি নং-১ জর্দা খেলে মানুষ মাতাল হয়ে যায়, আর যা খেলে মাতাল হয়, তা হারাম। উত্তর জর্দা খেলে মানুষ মাতাল হয় একথাটি সর্বৈব মিথ্যা। এতটুকু বলা যেতে পারে যে, অতিরিক্ত খেলে মাথা ঘুড়াবে। বমি আসবে। যদি বেশি খাওয়ায় মাথা ঘুড়ানো, বমি আসা, বা মাতাল হওয়াকে নিষিদ্ধ ও হারাম হবার মানদণ্ড ধরা হয়, তাহলে বলতে হবে মধু খাওয়া হারাম। কারণ, খাটি মধু আপনি একসাথে এক দেড় কেজি খেয়ে দেখেন মাথা ঘুরবেই। বমি আসবেই। মাতাল হয়ে যাবেন। এর মানে কি মধু খাওয়া হারাম? আট দশ কেজি আঙ্গুর একসাথে পিষে রস বের করে একসাথে খেলে মাথা ঘুরায়, বমি আসে, মাতাল মাতাল লাগবে। এর মানে কি আঙ্গুর খাওয়া হারাম? যে উদ্ভট যুক্তিতে জর্দাকে হারাম বলা হচ্ছে, সেই একই যুক্তিতে মধু ও আঙ্গুর খাওয়াও হারাম হয়ে যাবে। তাহলে কি বুঝা গেল? এটি যুক্তি নয় বরং কুযুক্তি। কোন হালাল জিনিসকে হারাম করার অধিকার কারো নেই। لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ ۖ [٦٦:١] আল্লাহ আপনার জন্যে যা হালাল করছেন, আপনি তা নিজের জন্যে হারাম করেছেন কেন? [সূরা তাহরীম-১] যুক্তি নং ২ জর্দা বানানো হয় তামাক পাতার মাধ্যমে। আর তামাক পাতা নেশাদ্রব্য। তামাক পাতা নেশাদ্রব্য হবার কারণে এটির মাধ্যমে বানানো জর্দা খাওয়া হারাম। যেমন নেশা গ্রহণ করা হারাম। উত্তর এক নাম্বার কথাতো হল যে, তামাক পাতা তেমন কোন নেশাদ্রব্য নয় যে, যা মাদকের হুকুমে ফেলা যায়। দ্বিতীয়ত তামাককে খানিক পরিশোধন করে জর্দা বানানো হয়ে থাকে। ফলে জর্দায় তেমন কোন নেশাই থাকে না। শুধুমাত্র নেশার প্রাথমিক উপকরণ হওয়াই যদি কোন কিছু নিষিদ্ধ হবার মানদণ্ড হয়, তাহলে আমাদের প্রশ্ন হল, আরবে খমর বা মদ বলতে বুঝানো হতো, যা খেজুর, আঙ্গুর, কিশমিশ দিয়ে বানানো হতো। এখন প্রশ্ন হল, যেহেতু খেজুর, আঙ্গুর ও কিশমিশ মদের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হতো, তাই কি এসব খাওয়া নাজায়েজ? অবশ্যই নয়। কারণ, কোন কিছু মাদকের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হলেই যতক্ষণ না তা মাদকে পরিণত হয়, ততক্ষণ সেটিকে হারাম বলার কোন সুযোগ নেই। একইভাবে জর্দার মূল উপকরণ তামাক হলেও যতক্ষণ না তা মাদক হিসেবে সাব্যস্ত হয়, তথা এর মাধ্যমে মানুষ মাতাল হয়ে যাওয়া নিশ্চিত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত সেটিকে মদের হুকুমে আরোপ করা অযৌক্তিক অসাড় মস্তিস্কের মন্তব্য ছাড়া কিছুই বলার সুযোগ নেই। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম রাঃ ব্যাপকভাবে শির্কা এবং নাবীজ পান করতেন। যা বেশি পরিমাণ খেলে বা বেশিদিন ভিজিয়ে রাখলে তা মাদকে পরিণত হতো। সুতরাং বুঝা গেল যে, যা মূলত মাদক হিসেবে স্বীকৃত নয়, তা নেশা পরিমাণ পান না করলে তা নিষিদ্ধ নয়। عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا، وَنَهَيْتُكُمْ عَنْ لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ فَوْقَ ثَلَاثٍ، فَأَمْسِكُوا مَا بَدَا لَكُمْ، وَنَهَيْتُكُمْ عَنِ النَّبِيذِ إِلَّا فِي سِقَاءٍ، فَاشْرَبُوا فِي الْأَسْقِيَةِ كُلِّهَا، وَلَا تَشْرَبُوا مُسْكِرًا» বুরায়দা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি কবর যিয়ারত করা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করতাম এখন তোমরা যিয়ারত কর। তিন দিনের অধিক কুরবানীর গোশত খেতে নিষেধ করতাম, এখন যত দিন সম্ভব সংরক্ষণ করে খেতে থাক এবং নাবীয (খেজুর ভিজানো পানি) পান করা হতে নিষেধ করতাম। (মশক ব্যতীত অন্যান্য পাত্রে) এখন সকল পাত্রে পান কর। কিন্তু নেশা হয় এমন অবস্থায় নয়। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৯৭৭, ইফাবা-২১৩২] عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْمُزَنِيِّ، قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ عِنْدَ الْكَعْبَةِ، فَأَتَاهُ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: مَا لِي أَرَى بَنِي عَمِّكُمْ يَسْقُونَ الْعَسَلَ وَاللَّبَنَ وَأَنْتُمْ تَسْقُونَ النَّبِيذَ؟ أَمِنْ حَاجَةٍ بِكُمْ أَمْ مِنْ بُخْلٍ؟ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، مَا بِنَا مِنْ حَاجَةٍ وَلَا بُخْلٍ، قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى رَاحِلَتِهِ وَخَلْفَهُ أُسَامَةُ، فَاسْتَسْقَى فَأَتَيْنَاهُ بِإِنَاءٍ مِنْ نَبِيذٍ فَشَرِبَ، وَسَقَى فَضْلَهُ أُسَامَةَ، وَقَالَ: «أَحْسَنْتُمْ وَأَجْمَلْتُمْ، كَذَا فَاصْنَعُوا» فَلَا نُرِيدُ تَغْيِيرَ مَا أَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ বকর ইবনু আবদুল্লাহ মুযানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর সাথে কাবার সন্নিকটে বসা ছিলাম। এ সময় এক বেদুঈন তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, কি ব্যাপার? আমি দেখছি আপনার চাচাতো ভাইয়েরা (আগন্তুকদের) মধু ও দুধ পান করায়। আর আপনারা নাবীয (খেজুরের তৈরি শরবত) পান করান? তা কি আপনাদের দরিদ্রতার কারণে, না কৃপণতার কারণে? ইবনু আব্বাস (রাঃ) আলহামদুলিল্লাহ উচ্চারণ করে বললেন, আমাদের না দারিদ্র আক্রান্ত করেছে, না কৃপণতা। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সওয়ারীতে চড়ে এখনে এলেন এবং তাকে এক পেয়ালা নাবীয দিলাম। তিনি তা পান করলেন এবং অবশিষ্টটুকু উসামাকে পান করালেন। এরপর বললেনঃ “তোমরা খুবই উত্তম কাজ করেছ এবং এরূপই করতে থাক।” অতএব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যা করার নির্দেশ দিয়েছেন- আমরা তার পরিবর্তন করতে চাই না। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৩১৬, ইফাবা-৩০৪৯] যুক্তি নং-৩ জর্দা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর মাধ্যমে ব্যক্তি ধীরে ধীরে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। ক্যান্সারসহ নানাভিদ রোগ হবার সম্ভাবনার কথা ডাক্তাররা বলে থাকেন। আর যে জিনিস শরীরের জন্য ক্ষতিকর তা ভক্ষণ করে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হারাম। সেই হিসেবে জর্দা খাওয়া হারাম। উত্তর হ্যাঁ, একথা ঠিক যে, বেশিদিন এবং বেশি পরিমাণ এ দ্রব্য গ্রহণে শরীর অসুস্থ্য হয়ে যেতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত নয়। কারণ, এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা পঞ্চাশ ষাট বছর ধরে জর্দা খাচ্ছেন, কিন্তু জর্দা খাওয়ার কারণে তাদের মাঝে শারিরীক কোন সমস্যা হয়নি। শুধুমাত্র সম্ভাবনার কারণে, কোন হালাল জিনিস হারাম বলাটাও একটি অযৌক্তিক কথা। বর্তমানের অনেক ডাক্তারগণ বলে থাকেন যে, ভাত, রুটি, মিষ্টিজাতীয় দ্রব্য বেশি পরিমাণ খাওয়ার দ্বারা ডায়বেটিস, কিডনী সমস্যা ইত্যাদি হয়ে থাকে। এখন কি বলা হবে যে, ভাত খাওয়া হারাম? মিষ্টি খাওয়া হারাম? অবশ্যই নয়। বরং যার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে নিশ্চিত হবে, কেবল তাকেই বলা হবে যে, তার জন্য তা গ্রহণ করা ঠিক নয়। কিন্তু আমভাবে এ হুকুম আরোপ করে দেয়া অযৌক্তিক দাবী ছাড়া আর কী? যুক্তি নং-৪ জর্দা একটি নেশা। কারণ, যারা পানের সাথে জর্দা খায়। তারা এটি না খেলে টিকতে পারে না। এর জন্য পাগল হয়ে যায়। যেহেতু এটা নেশার মত হয়ে গেছে। তাই তা খাওয়া হারাম। উত্তর এটি একটি হাস্যকর যুক্তি। কোন হালাল জিনিস খেতে উদগ্রীব হওয়াকে নেশা বলাটা বোকামী ছাড়া আর কী? অনেকে আছেন চা না খেলে টিকতে পারে না। চা খাওয়ার জন্য পাগল হয়ে যায়। এজন্য কী বলা হবে যে, চা খাওয়া একটি নেশা। তাই তা হারাম? অবশ্যই নয়। কারণ, কোন হালাল বস্তু খাওয়া কারো অভ্যাসে পরিণত হলে সেটি হারাম বলার কোন যৌক্তিকতা নেই। যেমন কারো দুধ খাওয়া অভ্যাস, কারো আঙ্গুর খাওয়ার অভ্যাস, কারো রুটি খাবার অভ্যাস, কারো বা ভাত খাবার অভ্যাস। কোন হালাল বস্তুর অভ্যাস হয়ে যাওয়াকে নেশা বলা নেশার সাথে তামাশা বৈ আর কী? فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلَالًا طَيِّبًا ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ [٨:٦٩] সুতরাং তোমরা খাও গনীমত হিসাবে তোমরা যে পরিচ্ছন্ন ও হালাল বস্তু অর্জন করেছ তা থেকে। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, মেহেরবান। [সূরা আনফাল-৬৯] كُلُوا وَاشْرَبُوا مِن رِّزْقِ اللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ [٢:٦٠] আল্লাহর দেয়া রিযিক খাও, পান কর আর দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে বেড়িও না। [সূরা বাকারা-৬০] সুতরাং বুঝা গেল যে, জর্দা যেহেতু মদ নয়, সেই সাথে সমাজে মাদক হিসেবে স্বীকৃত নয়, এবং এটি খাওয়ার দ্বারা কোন প্রকার নেশাও হয় না। তাই একটি হালাল জিনিসকে হারাম বলা আল্লাহর হালাল করা বস্তুকে হারাম করার নামান্তর। যা সুষ্পষ্টভাবে হারাম। সুতরাং হালাল বিষয়কে হারাম বলার গোনাহ থেকে বাঁচতে হলে জর্দাকে হারাম বলার পাপ থেকে মুক্ত থাকা জরুরী। শেষকথা জর্দা একটি হালাল জিনিস। যদি কেউ তা সীমিত পরিসরে খায়, সেটিকে হারাম বলার কোন সুযোগ নেই। তবে যেহেতু ডাক্তারগণ দীর্ঘমেয়াদে তা খাওয়ার কারণে শরীরে নানাভিদ অসুস্থ্যতা বাসা বাঁধতে পারার বিষয়ে সতর্ক করে থাকেন, তাই এ থেকে বিরত থাকাই উচিত।

মসজিদ যেভাবে হবে দ্বীনি প্রজন্মের বীজতলা

 প্রথমদিন মসজিদে যা যা করবেনঃ

  • ইক্বামতের আগে এতটুকু সময় হাতে নিয়ে মসজিদে যাবেন যেন বাচ্চা এই নতুন পরিবেশ ও নতুন জায়গায় ধাতস্থ হওয়ার সময়টুকু পায়। একেবারে দৌড়ে গিয়ে নামাযে দাঁড়িয়ে গেলে তার অজানা ভয়-আশঙ্কা কিংবা আড়ষ্টতা কাটবে কীভাবে ?
  • যথাসম্ভব সুন্দর ও পরিষ্কার কাপড় পরিয়ে নিয়ে যাবেন। নতুন কাপড় হলে আরও ভাল। এতে বাচ্চার মনে একটা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব থাকে যে, সে খুব বিশেষ কোন কাজে যাচ্ছে।
  • সালাত শুরুর পূর্বেই ইমাম সাহেব ও মুয়াজ্জিনের সাথে তার পরিচয় করিয়ে দিন। পূর্বে পারিবারিক অনুষ্ঠানে ইমাম সাহেবের সাথে পরিচয় হলেও আজকে আবার দেখা করিয়ে দিন। যেন কোন রকম সমস্যা-সংশয় কিংবা প্রশ্ন নিয়ে সে নির্দ্বিধায় এই “ইমাম আঙ্কেল” এর কাছে আসতে পারে। এজন্য ইমাম সাহেব ও মুয়াজ্জিনদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।
  • সালাতের পর সাথে সাথে না বেরিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। বাচ্চাকে মসজিদের পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর মত সময় দিন। বাবারা যদি নিজে বাচ্চার হাত ধরে পুরো মসজিদ ঘোরাতে পারেন (বিশালায়তনের মসজিদের ক্ষেত্রে) তাহলে সবচেয়ে ভাল।
  • মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি আঙ্কেলদের সাথে বাচ্চার পরিচয় করিয়ে দিন। এতে সে ভবিষ্যতেও মসজিদে আসলে অচেনা অনুভব করবে না।
যে কোন মুসলিম বাবা-মার জীবনের চরম চাওয়া থাকে তার সন্তানদেরকে দ্বীন ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত রেখে যাওয়া। আর এই চাওয়াকে পাওয়ায় পরিণত করতে হলে একেবারে শৈশবেই সন্তানদের মাঝে দ্বীনের বীজ বপন করতে হবে যার উপযুক্ত বীজতলা হচ্ছে মসজিদ। আল্লাহ আমাদেরকে একটি মসজিদমুখী প্রজন্ম দান করুন। আমীন। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

সুখী মানুষ হবার কিছু উপায় ৷

ডা. মারুফ রায়হান খান 

১. নিজেকে কখনও একেবারে এভেইলেবল করে দেবেন না। এভেইলেবল করে দিলেই মানুষ আপনাকে সস্তা ভাববে। আপনাকে সস্তা করার অধিকার আপনার নেই।

২. মানুষের জন্যে ফ্রি কিছু করতে কয়েকবার ভেবে নেবেন। বেশিরভাগ মানুষ নিঃস্বার্থ বিষয়গুলোর মূল্যায়ন করতে পারে না। If you are good at something, never do it for free.

৩. মানুষকে ভালোবাসবেন। সবসময় মানুষের উপকার করার চেষ্টা করবেন। মানুষ ঠিকঠাক জাস্টিস করতে পারে না তবে আল্লাহ তো পারেন। তিনি কখনও না কখনও আপনাকে তা বহুগুণে ফিরিয়ে দেবেনই। Man gets and forgets. Allah gives and forgives.

৪. ভালোবাসার মানুষকে অনেক ভালোবাসবেন ঠিক আছে। তবে নিজের শতভাগ উজাড় করে দিয়ে না। নিজের সবটুকু দিয়ে দিলে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তখন আপনি কী নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন? শক্তি কোথায় পাবেন? সব না দিয়ে নিজের জন্যে কিছু ভালোবাসা রেখে দিয়েন। মানুষ খুব দ্রুতই আকর্ষণ হারায়।
সৈয়দ হকের এই লাইন দুটো মনে রাখবেন–
“মানুষ এমন তয়, একবার পাইবার পর
নিতান্ত মাটির মনে হয়, সোনার মোহর।”

৫. মা-বাবার হক্ব কথাগুলো আপনার জীবনের সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি। উনাদের কখনও কষ্ট দেবেন না।

৬. হারাম পথে কখনও উপার্জন কোরেন না। রিজিকের মালিক আল্লাহ। যে আল্লাহ একটা পাখিকেও অভুক্ত রাখেন না, তিনি আপনাকেও অভুক্ত রাখবেন না। এই ২২/২৩ বছর যিনি আপনাকে না খাইয়ে রাখেননি, আগামী জীবনেও না খাইয়ে রাখবেন না৷ হয়তো প্রতি বেলা ফ্রাইড রাইস খেতে পারবেন না, অন্তত ভাত খেতে তো পারবেন। হারাম টাকায় ফ্রাইড রাইস খাবার চেয়ে হালাল টাকায় ভাত খাওয়া অনেক প্রশান্তির। মনে রাখবেন যে আল্লাহ অঢেল দেবেন সে আল্লাহর কেড়ে নিতেও সময় লাগবে না।

৭. কখনও ফেইম, পপুলারিটি এসবের পেছনে ছুটবেন না। এগুলো মানুষকে শান্তি দিতে পারে না। ফ্যামিলি গাই হবেন। বেশি ফেমাস হলে আপনার লাইফ আর আপনার থাকবে না। সেটা পাবলিক প্রোপার্টি হয়ে যাবে। পপুলার লোকদের মানুষ তেমন ভালোবাসে না। বরং ঈর্ষা করে। লাইফের ফ্যালাসি হচ্ছে একসময় মানুষ চায় সবাই তাকে চিনুক জানুক। চেনা-জানা হয়ে গেলে সেই মানুষটাকেই মুখ ঢেকে বের হতে হয়। তার সামনে অনেক লোক ভিড় করুক সেটা আর পছন্দ করে না। সেলেব্রিটিদের মধ্যে ডিপ্রেশানের হার অনেক বেশি। তবে ভালো কাজ করতে করতে আল্লাহ যদি পরিচিত বানিয়ে দেন সেটা ভিন্ন কথা।

৮. পৃথিবীতে দুই ধরনের পেইন আছে। পেইন অফ ডিসিপ্লিন আর পেইন অফ রিগ্রেট। মানুষ হিসেবে জন্মেছেন মানেই আপনাকে যেকোনো একটা পেইন নিতেই হবে। পেইন অফ ডিসিপ্লিন নিলে আপনাকে রিগ্রেট নিতে হবে না। আর পেইন অফ রিগ্রেট নিতে চাইলে ডিসিপ্লিন না নিলেও হবে। ডিসিপ্লিন নিলে পেইন পেলেও সফলতা পাবেন৷ রিগ্রেট নিতে চাইলে পেইন তো পাবেন সেই সাথে তুমুল ব্যর্থতা।

৯. যে যোদ্ধা প্রস্তুতির সময় যতো বেশি পরিশ্রম করে ঘাম ঝরায়, যুদ্ধক্ষেত্রে রক্ত ঝরার সম্ভাবনা ততো কমে যায়। আর যে প্রস্তুতির সময় ঘাম ঝরায় না, তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে রক্ত ঝরাতে হয়। সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা ঘাম ঝরাব না কি রক্ত।

১০. যদি ছেলে-মেয়ে, ধনী-গরীব, কালো-ফর্সা, লম্বা-খাটো, মোটা-চিকন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ কাউকে আলাদা দৃষ্টিতে দেখেন তাহলে শিক্ষকতা পেশা আপনার জন্যে না। সবাইকে এক চোখে দেখবেন এই প্রমিজ নিজের কাছে করেই শিক্ষকতা করতে আসবেন। আপনার ছাত্রদের সময় অত্যন্ত মূল্যবান। আপনার ক্লাসের প্রতিটি মিনিট যেন গুরুত্বপূর্ণ হয় সে চেষ্টা করতে হবে। তার সময় যেন আপনি কোনোভাবেই নষ্ট না করেন খেয়াল রাখবেন। আপনার ক্লাস যেন কোনোভাবেই কাউকে বোর না করে সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। আপনার স্টুডেন্টকে আপনি সম্মান করবেন। সে কিন্তু তার পরিবারে তার সোসাইটিতে অনেক সম্মানিত মানুষ। তাকে অসম্মান করার অধিকার আপনার নেই।

১১. আল্লাহ ভাঙা জিনিসগুলোকে অদ্ভুত সুন্দরভাবে ব্যবহার করেন। মেঘ ভেঙে বৃষ্টি ঝরান। মাটিকে ভেঙে বের করে আনেন ফসল। ফসল ভেঙে বীজ। আর সে বীজ ভেঙে হয় চারা। সেই চারা থেকে একদিন মহীরুহ।
যদি নিজেকে কখনও ছিন্নভিন্ন মনে হয় তবে জেনে রাখুন আল্লাহ আপনাকে খুব ভালো কিছুতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করছেন।

হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ইন্তেকাল করেছেন

 চলে গেলেন দেশের শীর্ষ আলেমে দ্বীন হেফাজত ইসলামের আমির বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এর সভাপতি ও চট্টগ্রাম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার সদরে মুহতামিম আল্লামা শাহ আহমদ শফী। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় আজগর আলী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আজ শুক্রবার বিকেলে ৪ টার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মাঠ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকা নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে পুরান ঢাকার আজগর আলী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আল্লাহ তাআলা তার মাগফিরাত করুন। জান্নাতের উচ্চ মাকাম নসীব করুন।


করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার আমলসমূহ

মুফতি মনসূরুল হক   

বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও বিস্তার ঘটেছে এ ভাইরাসের। করোনা আক্রান্ত এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্ত হয়েছে আরও প্রায় বিশজন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ অবস্থায় করোনার সংক্রমণ এবং বিস্তার ঠেকাতে বিশেষ সতর্কতা এবং সচেতনতার কথা বলা হচ্ছে। মহামারী এ ভাইরাসের প্রতিষেধক এখন পর্যন্ত আবিষ্কার না হওয়ায় সতর্কতা-সচেতনতার পাশাপাশি কুরআন হাদিসে বর্ণিত আমলগুলো গুরুত্বের সাথে পালনের জন্য আলেমদের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে। 
আজকে এক আলোচনায় দেশের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মুফতি মনসূরুল হক কতিপয় আমলের কথা বলেন- ১. সর্বপ্রথম নিজের ঈমান আমলকে সংশোধন করা। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন- وَمَا كَانَ رَبُّكَ لِيُهْلِكَ الْقُرَى بِظُلْمٍ وَأَهْلُهَا مُصْلِحُونَ 
 অর্থ : আর আপনার রব এমন নন যে, তিনি জনপদসমূহকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেবেন অথচ তার অধিবাসীরা সৎকর্মে লিপ্ত রয়েছে। (সূরা হুদ : ১১৭) 
২. দুই নম্বর কাজ হলো-আকীদা সহীহ করা। পবিত্র কুরআনে কারীমে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, قُلْ لَنْ يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا هُوَ مَوْلَانَا وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ 
 অর্থ: হে নবী! আপনি বলে দিন! আল্লাহ আমাদের জন্য (তাকদীরে) যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া অন্য কোনও কষ্ট আমাদেরকে কিছুতেই স্পর্শ করবে না। তিনিই আমাদের অভিভাবক। আর আল্লাহর উপর মুমিনদের ভরসা করা উচিত। (সূরা তাওবা; আয়াত ৫১)
 কাজেই যে কোনও বালা-মুসীবত ও মহামারিতে মুমিন বান্দার প্রথম কাজ হলো নিজের আকীদা বিশ্বাস দৃঢ় করা যে, আল্লাহ তাআলা যদি আমার তাকদীরে লিখে রাখেন, তবে তা কোনভাবেই আটকানো সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলাই আমাকে সুস্থতা দান করবেন, মারা গেলে ‘শহীদ’ এর মর্যাদা তথা বিনা হিসেবে জান্নাত দান করবেন। আর যদি আমার তাকদীরে এ রোগ না লিখে থাকেন, তবে এ রোগ আমার কক্ষনো হবে না। এর পাশাপাশি এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, করোনা ভাইরাস কোনও রোগ ছোঁয়াচে রোগ নয়। বরং আল্লাহ তাআলা তাকদীরে রেখেছেন-এ জন্য হয়েছে। হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছে-নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- ولا عدوى،অর্থাৎ ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই!’ এক সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন যে, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা একটি খুজলিযুক্ত বকরী অন্যান্য (সুস্থ) বকরীর মাঝে রেখে দিলে সেগুলোও তো খুজলি রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়! নবীজী বললেন, ‘ فمن أعدى الأول ‘তাহলে প্রথম বকরীটি কী কারণে আক্রান্ত হলো?’ অর্থাৎ প্রথম বকরীটি যেভাবে আল্লাহর হুকুমে আক্রান্ত হয়েছে, তেমনি অন্যগুলোও আল্লাহর হুকুমে আক্রান্ত হয়েছে। (মুসনাদে আহমাদ; হা.নং ৩০৩১) 
 ৩. বেশি বেশি ইস্তেগফার করা তথা আল্লাহর কাছে নিজ গোনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন- وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ অর্থ : এবং (হে নবী!) আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মাঝে বর্তমান থাকা অবস্থায় তাদেরকে শাস্তি দেবেন এবং তিনি এমনও নন যে, তারা ইস্তিগফারে রত থাকা অবস্থায় তাদেরকে শাস্তি দেবেন। (সূরা আনফাল : ৩৩) 
 ৪. এ দু‘আটি বেশি বেশি পাঠ করা- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ অর্থ : (হে আল্লাহ!) আপনি ছাড়া কোনও মাবুদ নেই। আপনি সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি অপরাধী (সূরা আম্বিয়া ৮৭)
 ৫. বাদ ফজর ও বাদ মাগরিব তিন তিনবার নিম্নোক্ত দু‘আ দুটি পড়া– بِسْمِ اللهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ অর্থ : আল্লাহর নামে, যার নামের সাথে আসমান ও যমীনে কোনও বস্তু ক্ষতিসাধন করতে পারে না। আর তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী! (মুসনাদে আহমাদ; হা.নং ৪৪৬) أعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق উচ্চারণ : আউযুবিকালিমাতিল্লাহিত; তাম্মা-তি মিন শাররি মা খলাক্ব। অর্থ : আমি আল্লাহর কাছে তার পরিপূর্ণ ‘কালেমা’র মাধ্যমে সকল সৃষ্টিজীবের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। (মুসনাদে আহমাদ; হা.নং ৭৮৯৮) 
 ৬. নিম্নোক্ত দুআটি বেশি বেশি পাঠ করা- اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ، وَالْجُنُونِ، وَالْجُذَامِ، وَمِنْ سَيِّئِ الْأَسْقَامِ অর্থ: হে আল্লাহ! আমি শে^ত রোগ, উন্মাদনা, কুষ্ঠ রোগ এবং সকল প্রকার দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। (মুসনাদে আহমাদ; হা.নং ১৩০০৪) 
 ৭. দিনে যে কোনও সময়ে সূরা ফাতিহা তিনবার, সূরা ইখলাস তিনবার, এবং নিম্নোক্ত দুআটি ৩১৩ বার পড়া- حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ অর্থ : আল্লাহ তাআলাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর তিনি অতি উত্তম অভিভাবক। (সূরা আলে ইমরান; আয়াত ১৭৩) 
 ৮. দিনে যে কোনও সময়ে নিজ পরিবারে সম্মিলিতভাবে সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্ভরযোগ্য কোনও কিতাবের তা‘লীম করা। এটা একটা পরীক্ষিত আমল। নিকট অতীতে হিন্দুস্তানে একবার এক মহামারি দেখা দেয়। তখন হযরত আশরাফ আলী থানভী রহ. এ মহামারি থেকে বাঁচার জন্য ‘নাশরুত তীব’ নামে সীরাতগ্রন্থ লেখা শুরু করেন। এ সীরাতের বরকতে আল্লাহ তাআলা মহামারি উঠিয়ে নেন! নির্ভরযোগ্য সীরাতের কিতাব যেমন সাইয়্যেদ আবুল হাসান নদবী রহ. রচিত কিতাব ‘নবীয়ে রহমাত’ (বাংলা), মুফতী শফী রহ.কৃত ‘সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া সা. (বাংলা)। আতঙ্ক নয়, সতর্ক হই, সচেতন হই, গুনাহ বর্জন করি।

রোগ-বালাই ও মহামারির মতো বালা-মুসিবতে করণীয় আমল।

শাইখুল হাদীস মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. কিছু আমলের কথা বলেন-




কুরআনের পর্দাই তাঁদের দিয়েছে নেকাব-বোরকা

গত শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দৈনিক যুগান্তরের ‘ইসলাম ও জীবন’ পাতার একটি লেখা পড়ে বিস্মিত হয়েছি। ‘কোরআনের পর্দাকে বোরকায় ঢাকল কারা’ শীর্ষক লেখাটিতে ইসলামের পর্দা বিধানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ-‘বোরকা’ ও ‘পরপুরুষের সামনে নারীর চেহারা আবৃত রাখা’র বিষয়ে কিছু অশালীন ও অমার্জিত বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে এবং কিছু অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে! নিবন্ধের বাক্যব্যবহার সম্পর্কে কিছু বলার নেই, শুধু তথ্যবিকৃতির কিছু নমুনা তুলে ধরছি। ‘বোরকা ইসলামী বিধান নয়’ প্রমাণ করার জন্য বলা হয়েছে, ‘… কোরআনে সর্বমোট চারটি স্থানে ব্যাপক পর্দার কথা বলা হয়েছে।’ এরপর সূরা আরাফের (৭) : ২৬ নং আয়াত ও সূরা নূরের (২৪) : ৩০, ৩১, ৬০ নং আয়াতের তরজমা উদ্ধৃত করা হয়েছে। পর্দার বিষয়ে কোরআনে শুধু ঐ চার স্থানেই বলা হয়েছে-এই তথ্য সঠিক নয়। সূরা আহযাবের (৩৩) ৫৩ ও ৫৯ নং আয়াতেও পর্দার বিধান আছে, যা নিবন্ধে সম্পূর্ণ গোপন করা হয়েছে। সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াত দ্বারা বোরকার বিধান প্রমাণিত হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, আপনার কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের জিলবাবের একাংশ নিজেদের (মুখের) উপর নামিয়ে দেয়।’-সূরা আহযাব : ৫৯ ‘জিলবাব’ অর্থ বড় চাদর, যা দ্বারা মুখমন্ডল ও পূর্ণ দেহ আবৃত করা যায়।-আলজামি লিআহকামিল কুরআন, কুরতুবী ১৪/২৪৩ শত শত বছর যাবৎ মুসলিমজাহানের সর্বত্র যে দ্বীনদার নারীগণ নেকাব ও বোরকা পরিধান করে আসছেন তাঁরা এই জিলবাব ধারণের বিধানই পালন করছেন। এরপর বোরকার বিরুদ্ধে ‘যুক্তি’ প্রদর্শন করতে গিয়ে এমন কিছু যুক্তিহীন কথা বলা হয়েছে, যা সত্যিই দুঃখজনক। বলা হয়েছে, ‘এখন বাজারে যেসব বোরকা পাওয়া যায় তা এমনভাবে তৈরি যে, বোরকা পরিহিত কোনো নারীর দিকে তাকালে যৌন সুড়সুড়ি বৃদ্ধি পায়।’ আরো বলা হয়েছে, ‘বর্তমান সময়ে বোরকাকে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধকর্মে। …’ এসব যে সম্পূর্ণ বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না, তাছাড়া কোথাও কারো দ্বারা বোরকার ভুল ব্যবহার হয়ে থাকলে শরীয়তসম্মত বোরকা কেন নিষিদ্ধ হবে? এ তো শিরপীড়ার চিকিৎসায় শিরশ্চ্ছেদের প্রস্তাব! আর এসব অন্যায় তাদের মাঝেই দেখা যায়, যারা ইসলামের পর্দা বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ, কিংবা ইসলামের নির্দেশ ও নির্দেশনাকেও পশ্চিমা ছাঁচে ঢালাই করে নিতে বদ্ধপরিকর। দ্বিতীয় বিষয়, ‘পরপুরুষের সামনে নারীর মুখমন্ডল আবৃত রাখা।’ এটিও কুরআন-সুন্নাহর বিধান। সূরা আহযাবের (৩৩) ৩৩, ৫৩ ও ৫৯ নম্বর আয়াত ছাড়াও সূরা নূরের (২৪) ৩১ নম্বর আয়াত এবং বুখারী-মুসলিমসহ অন্যান্য হাদীসের কিতাবের সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা মুমিনদের নারীদের আদেশ করেছেন তারা যেন কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মাথা থেকে চাদর টেনে সম্পূর্ণ মুখমন্ডল আবৃত করে, শুধু (চলার জন্য) এক চোখ খোলা রাখে।’ ইসমাঈল ইবনে উলাইয়্যা রাহ. এ আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একটি চাদর নিলেন এবং ঘোমটার মতো পরে মাথা-মুখ ঢেকে ফেললেন। কপাল, নাক ও বাম চোখও ঢাকলেন, ডান চোখ খোলা রাখলেন। এরপর বললেন, ‘এভাবে আমাদেরকে চাদর পরে দেখিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আওন, তাঁকে দেখিয়েছেন (বিখ্যাত তাবেয়ী) মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন, আর তাঁকে দেখিয়েছেন আবীদা ইবনে আম্র সালমানী রাহ. (যিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর শাগরিদ ও শীর্ষস্থানীয় তাবেয়ী)’।-জামিউল বায়ান, তাবারী ১০/৩৩২; তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ইবনে কাছীর ৩/৮২৫ ইমাম আবু বকর রাযী আলজাসসাস রাহ. লিখেছেন-‘এই আয়াত থেকে প্রমাণ হয়, বাইরে বের হওয়ার সময় পরপুরুষের দৃষ্টি থেকে নারীর মুখমন্ডল আবৃত রাখা এবং পর্দানশীন পবিত্র নারীর বেশ গ্রহণ করা অপরিহার্য, যাতে দুষ্ট লোকেরা তাদের প্রতি উৎসাহী না হয়।’-আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/৩৭২; আরো দেখুন : আলকাশশাফ, যামাখশারী ৩/৩৭৪; তাফসীরে বায়যাবী ২/২৮০; তাফসীরে জালালাইন ৫৬০; তাফসীরে গারাইবুল কুরআন ওয়া রাগাইবুল ফুরকান ৫/৪৭৬; আযওয়াউল বয়ান, মুহাম্মাদ আলআমীন আশশানকীতী ৬/৫৮৬ মুখমন্ডল আবৃত রাখার বিধান সহীহ হাদীস দ্বারাও প্রমাণিত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘ইহরাম গ্রহণকারী নারী যেন নেকাব ও হাতমোজা পরিধান না করে।’-সহীহ বুখারী ৪/৬৩, হাদীস : ১৮৩৮ এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মেয়েরা তাদের হাত ও মুখমন্ডল আবৃত রাখতেন।এ কারণে ইহরামের সময় নেকাব ও দস্তানা না পরার আদেশ করতে হয়েছে। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর হজ্বের বিবরণে বলেছেন, ‘ইহরামের কারণে তারা নেকাব খোলা রাখতেন, কিন্তু যখন পুরুষেরা নিকট দিয়ে অতিক্রম করত তখন তারা মুখমন্ডল আবৃত করে ফেলতেন। তারা চলে যাওয়ার পর নেকাব তুলে ফেলতেন।’-মুসনাদে আহমদ ৬/৩০; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১৮৩৩; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৭৫৭ আসমা বিনতে আবু বকর রা. বলেন, ‘আমরা পুরুষদের সামনে মুখমন্ডল আবৃত রাখতাম।...’-আলমুসতাদরাক, হাকিম ১/৪৫৪ ফাতিমা বিনতুল মুনযির রাহ. বলেন, ‘আমরা আসমা বিনতে আবু বকর রা.-এর সাথে ইহরাম অবস্থায় থাকাকালে আমাদের মুখমন্ডল ঢেকে রাখতাম।’-আলমুয়াত্তা, ইমাম মালেক ১/৩২৮; আলমুসতাদরাক, হাকিম ১/৪৫৪ হযরত আয়েশা রা. ইফ্কের দীর্ঘ হাদীসে বলেছেন-‘আমি আমার স্থানে বসে ছিলাম। একসময় আমি ঘুমিয়ে পড়ি। সফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল আসসুলামী ছিল বাহিনীর পিছনে। সে যখন এখানে পৌঁছল তখন একজন ঘুমন্ত মানুষের আকৃতি দেখতে পেল। এরপর সে আমার নিকট এলে আমাকে চিনে ফেলল। কারণ, পর্দা বিধান অবতীর্ণ হওয়ার আগে সে আমাকে দেখেছিল। তখন সে ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলে ওঠে, যার দরুণ আমি ঘুম থেকে জেগে উঠি এবং ওড়না দিয়ে নিজেকে আবৃত করে ফেলি। অন্য রেওয়ায়েতে আছে, ‘আমি ওড়না দিয়ে আমার চেহারা ঢেকে ফেলি।’-সহীহ বুখারী ৫/৩২০; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৭৭০; জামে তিরমিযী, হাদীস : ৩১৭৯ আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন-‘সঠিকতর সিদ্ধান্ত এই যে, নারীর জন্য পরপুরুষের সামনে দুই হাত, দুই পা ও মুখমন্ডল খোলা রাখার অবকাশ নেই।’-মাজমুউল ফাতাওয়া ২২/১১৪ ইবনুল কাইয়িম রাহ. বলেন, ‘নারী নামায আদায়ের সময় দুই হাত ও মুখমন্ডল খোলা রাখতে পারেন, কিন্তু এভাবে বাজারে ও লোকের সমাগমস্থলে যাওয়ার অবকাশ নেই।’-ই’লামুল মুয়াক্কিয়ীন ২/৪৭ শায়খ ইবনে বায রাহ., শায়খ ইবনে উছাইমীন ও শায়খ ইবনে জিবরীনও একই ফতোয়া দিয়েছেন। দেখুন : রিসালাতুন ফিলহিজাবি ওয়াসসুফূর, পৃ.১৯; ফাতাওয়া উলামাইল বালাদিল হারাম পৃ. ১১৬৯ কুরআন-সুন্নাহর উপরোক্ত উদ্ধৃতিগুলোর আলোকে নিবন্ধের এই বক্তব্য মূল্যায়ন করুন- ‘সমাজে চেহারা ঢাকার জঘন্য প্রথাটাও চালু করেছে ধর্মের চক্রান্তকারীরা। ইসলামে এর কোনো স্থান নেই।’ পরপুরুষকে মুখমন্ডল ‘প্রদর্শন করা যাবে’ প্রমাণের জন্য সূরা নূরের ৩১ নং আয়াতের তরজমা উদ্ধৃত করা হয়েছে। (উল্লেখ্য, তরজমায় ‘সাধারণত প্রকাশমান সৌন্দর্য’ কথাটা মূল আরবী পাঠের নিখুঁত তরজমা নয়) এরপর ব্যাখ্যায় আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যে, ‘‘এ দ্বারা করতল ও চেহারা উদ্দেশ্য’’। আরো বলা হয়েছে, ‘ইবনে মাসুদ রা., ইবনে মাখরামা রা. এরপর ইবনে জুবাইর, ইবনে আবী রাবিহা (?), হাসান বসরি, কাতাদা, ইবনে জাইদ, আওযায়ী আরও অনেক বিজ্ঞজন থেকে ইবনে আববাসের সপর্কে বক্তব্য রয়েছে। সবার এক কথা, চেহারা পর্দার বিধানের আওতায় পড়ে না।’ অথচ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ আলাদা। আর আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা.-এর উদ্ধৃত উক্তি আলোচ্য দাবির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। একাধিক সহীহ সনদে ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, আয়াতের আলোচ্য অংশ-‘ইল্লা মা যাহারা মিনহা’ অর্থ ‘কাপড়’। (দ্র. জামিউল বায়ান, তাবারী ১৭/২৫৬-২৫৮; আল-মুসান্নাফ, ইবনে আবী শাইবা ৯/২৮০) বিখ্যাত তাফসীরকার ইবনে কাছীর রাহ. বলেন, ‘আয়াতের অর্থ, পরপুরুষের সামনে নারী তার কোনো প্রকারের সৌন্দর্য প্রকাশ করবে না। তবে যা আবৃত রাখা সম্ভব নয় তার কথা আলাদা। এর দৃষ্টান্ত দিয়ে ইবনে মাসউদ রা. বলেছেন, ‘চাদর ও কাপড়।’ অর্থাৎ আরবের নারীগণ যে বড় চাদরে তাদের পরনের কাপড় ঢেকে বের হতেন এবং কাপড়ের নীচের অংশ, যা চলার সময় চাদরের নীচ দিয়ে প্রকাশিত হয়ে যেত তা যেহেতু ঢেকে রাখা সম্ভব নয় তাই এতে কোনো দোষ নেই। ‘হাসান (বসরী), (মুহাম্মাদ) ইবনে সীরীন, আবুল জাওযা, ইবরাহীম নাখায়ী প্রমুখ মনীষীও অনুরূপ ব্যাখ্যা করেছেন।’-তাফসীরুল কুরআনিল আজীম ৩/৩১২ কুরআন মাজীদের শব্দ ও বাক্য, আলোচ্য বিষয়ের হাদীস ও আছার এবং উসূলুল ফিকহের নীতি ও বিধান ইত্যাদি বিবেচনায় ইবনে মাসউদ রা.-এর ব্যাখ্যাই অগ্রগণ্য।কিছু বিষয় লক্ষ করুন : এক. আলোচ্য ক্ষেত্রে কুরআনের শব্দ হচ্ছে ‘যীনাত’। শব্দটি কুরআন মাজীদে সাধারণত ‘আলাদা সৌন্দর্য’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন সূরা আরাফে (৭ : ৩১) বলা হয়েছে, ‘‘তোমরা প্রতি নামাযের সময় ‘তোমাদের যীনত’ গ্রহণ করবে।’’ এখানে ‘তোমাদের যীনত’ অর্থ পোষাক, দেহের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নয়। বিস্তারিত দেখুন : জামিউল বায়ান, তাবারী ১৭/২৫৭; আযওয়াউল বায়ান, শানকীতী ৬/১৩৫-১৩৬; আদ্দালালাতুল মুহকামা, ড. লুৎফুল্লাহ খাওজা পৃ. ৯৪ দুই. আয়াতের আলোচ্য অংশের মূল পাঠ হল-‘ইল্লা মা যাহারা মিনহা’। ‘যাহারা’ অর্থ খুলে গেল, প্রকাশিত হল। ‘খুলল বা প্রকাশ করল’ নয়। সুতরাং ‘যাহারা’ শব্দটিও ‘ঢেকে রাখা অসম্ভব কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশিত সৌন্দর্য’ নির্দেশ করে। ঐ সৌন্দর্য নয় যা ঢেকে রাখা সম্ভব, কিন্তু কেউ কেউ ইচ্ছা করে তা খোলা রাখছে। বিস্তারিত : আল মুহাররারুল ওয়াজীয, ইবনে আতিয়্যাহ ১০/৪৮৮, ৪৮৯; হিজাবুল মারআতি ফিল ইসলাম, ড. ফুয়াদ মুহাম্মাদ-আদিল্লাতুল হিজাব পৃ. ৩০৮-৩০৯ তিন. সূরা আহযাবের ৫৯ নম্বর আয়াতে জিলবাবের একাংশ চেহারার উপর নামিয়ে মুখমন্ডল আবৃত রাখার আদেশ করা হয়েছে। তা-ও সূরা নূরের আলোচ্য আয়াতে ইবনে মাসউদ রা.-এর ব্যাখ্যাকেই প্রতিষ্ঠিত করে। চার. সহীহ হাদীসে নারীদের মুখমন্ডল আবৃত রাখার যে নির্দেশ ও বিবরণ আছে তা-ও ইবনে মাসউদ রা. এর ব্যাখ্যার সাথেই সঙ্গতিপূর্ণ। পাঁচ. উসুলুল ফিকহ ও কাওয়াইদুশ শরীয়া অনুসারেও ইবনে মাসউদ রা.-এর ব্যাখ্যা অগ্রগণ্য। দেখুন : আলমুহাররারুল ওয়াজীয, ইবনে আতিয়্যাহ ১০/৪৮৯; আযওয়াউল বায়ান ৬/১৩৬ রিসালাতুল হিজাব, শায়খ ইবনে উসাইমীন ছয়. স্বয়ং আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকেও সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় নির্ভরযোগ্য সনদে নারীর মুখমন্ডল আবৃত রাখার বিধান বর্ণিত হয়েছে। দেখুন : জামেউল বায়ান, তাবারী ১৯/১৮১; আলজামি লিআহকামিল কুরআন, কুরতুবী ১৪/২৪৩; আল ইতকান, সুয়ূতী ৪/২০৭ তদ্রূপ শক্তিশালী সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, ইহরাম গ্রহণকারী নারীর বিষয়ে ইবনে আববাস রা. সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, ‘তাঁরা চেহারার উপর জিলবাব ঝুলিয়ে দিবে, পেঁচিয়ে বাঁধবে না।’ (পেঁচিয়ে বাঁধবে না কারণ, ইহরাম অবস’ায় মেয়েদের মুখে কাপড় লাগানো নিষেধ)- সুল্লামুল আমানী, ড. আকীল ইবনে আহমদ পৃ. ১৭৪ তাহলে ইবনে আববাস রা. সম্পর্কে এ দাবি কীভাবে সত্য হতে পারে যে, তিনি পরপুরুষের সামনে নারীগণকে চেহারা খোলা রাখতে বলেছেন? প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে ইবনে আববাস রা.-এর ঐ উক্তির ব্যাখ্যা কী। ব্যাখ্যার আগে দেখতে হবে ইবনে আববাস রা. সত্যিই ঐ উক্তি করেছেন কি না। অনেক গবেষক আলিমের মতে, এই উক্তি ইবনে আববাস রা. থেকে সহীহ সনদে প্রমাণিত নয়। সহীহ ও নির্ভরযোগ্য সনদে যা পাওয়া যায় তা এই প্রসিদ্ধ উক্তির সম্পূর্ণ বিপরীত। দেখুন : আদিল্লাতুল হিজাব, শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ পৃ. ২৮৬; সুল্লামুল আমানী, ড. আকীল ইবনে আহমদ পৃ. ১৭১-১৭৩; আততাফসীরুস সহীহ, ড. হিকমত ইবনে বাশীর ৩/৪৬৩-৪৬৪ নিবন্ধে মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। ইবনে আবী শাইবার সনদ গ্রহণযোগ্য, কিন্তু তাতে তো চেহারা ও করতল আবৃত রাখবার কথা পাওয়া যায়। এ বর্ণনা তো ঐ সম্ভাবনাকেই শক্তিশালী করে, যা বিখ্যাত তাফসীরকার ইবনে কাছীর রাহ. উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সম্ভাবনা আছে, ইবনে আববাস রা. ও অন্যরা চেহারা ও করতল দ্বারা ‘প্রকাশিত সৌন্দর্য’ নয় ‘আবরণীয় সৌন্দর্যের’ ব্যাখ্যা করেছেন।’-তাফসীরুল কুরআনিল আজীম ৩/৩১২ আবরণীয় সৌন্দর্যের মাঝে চেহারা ও করতল বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ বিভ্রান্তি ও শিথিলতার আশঙ্কা।যেহেতু এ দুটি অঙ্গ নামাযে ঢাকতে হয় না এবং হজ্বের সময়ও চেহারায় কাপড় লাগানো নিষেধ তাই কারো বিভ্রান্তি হতে পারে যে, পরপুরুষের সামনেও তা খোলা রাখা যাবে। দেখুন : আল মুসান্নাফ, ইবনে আবি শাইবা ৯/২৮০, হাদীস : ১৭২৮১; তাফসীরুল কুরআনিল আজীম, ইবনে কাছীর ৩/৩১২; সুল্লামুল আমানী, ড. আকীল ইবনে আহমদ পৃ. ১৭৬ যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, ইবনে আববাস রা. ‘প্রকাশিত সৌন্দর্যের’ ব্যাখ্যায় ঐ উক্তি করেছেন তবুও নিবন্ধের দাবি প্রমাণিত হয় না। কারণ এখানে অন্যান্য গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন : এক. পর্দা শরীয়তের ঐসব বিধানের অন্যতম, যা ক্রমান্বয়ে পরিণতি লাভ করেছে। সুতরাং এসংক্রান্ত আয়াত-হাদীস একত্র করলে স্বভাবতই তাতে চূড়ান্ত বিধানের পাশাপাশি প্রাথমিক বিধানও পাওয়া যাবে। তেমনি পরবর্তী সময়ে কোনো আয়াতের ব্যাখ্যাগত আলোচনায় সে আয়াতের প্রাথমিক বা এ সংক্রান্ত অন্যান্য আয়াত নাযিল হওয়ার আগের অর্থ আলোচিত হতেও বাধা নেই। তবে তা হবে প্রাথমিক অবস্থার বিবরণ, চূড়ান্ত বিধান নয়। ইবনে আববাস রা.-এর আলোচিত উক্তি সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়া, ইবনে রজব হাম্বলী প্রমুখ মনীষীগণ এ সম্ভাবনাই গ্রহণ করেছেন। তারা একে প্রাথমিক বিধান আর ইবনে মাসউদ রা.-এর ব্যাখ্যাকে চূড়ান্ত ব্যাখা ও চূড়ান্ত বিধান হিসেবে গ্রহণ করেছেন। দেখুন : মাজমূউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়া ২২/১১০-১১১; ফাতহুল বারী, ইবনে রজব ২/১৩৮; আন নাকদুল বান্না, আবু মুয়ায তারিক ইবনে আউযুল্লাহ ১৮০-১৮০; সুল্লামুল আমানী, ড. আকীল ইবনে আহমদ পৃ. ১৭৭, ১৭৮-১৮০ দুই. তাবারীর একটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় আছে, ইবনে আববাস রা. আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন, নারীর মুখমন্ডল এবং হাত ও মুখে ব্যবহৃত সৌন্দর্য, যেমন কাজল, মেহেদী, আংটি ইত্যাদি তার কাছে ঘরে আগমনকারী (মাহরাম) পুরুষের সামনে প্রকাশিত হলে দোষ নেই। দেখুন : জামিউল বায়ান, তবারী ১৭/২৫৯; আদ্দালালাতুল মুহকামা, ড. লুৎফুল্লাহ খাওজা পৃ. ৯৭; আততাফসীরুস সহীহ, ড. হিকমত ইবনে বাশীর ৩/৪৬৩-৪৬৪ সুতরাং বাইরে বের হওয়ার সময় নারীরা মুখমন্ডল খোলা রাখবেন-এ দাবি ইবনে আববাস রা.-এর উক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিন. অন্যদিকে বায়হাকী, ইবনে রুশদ প্রমুখ মনীষীর মতে, এটি সাধারণ অবস্থার বিধান নয়, শরীয়তসম্মত প্রয়োজন ও অপারগতার ক্ষেত্রের বিধান।-আসসুনানুল কুবরা, বায়হাকী ৭/৮৫; আন নাযার ফী আহকামিন নাযার, আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান পৃ. ৪১০ সুতরাং এ প্রসঙ্গে শায়খ আবু হিশাম আনসারীর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য-‘যারা এই আয়াত দ্বারা চেহারা ও দুই হাতের পাতা খোলা রাখার বৈধতা প্রমাণে সচেষ্ট তাদের পতেৃপ্তি ও প্রশান্তিদায়ক কোনো দলীল নেই। ইবনে আববাস রা. ও তাঁর সঙ্গীদের কিছু উক্তির উপর ভর করে আয়াতের বক্তব্য অন্য দিকে নেওয়াই তাদের সকল প্রচেষ্টার সারকথা। তাদের ভিত্তিহীন দাবির সাথে ইবনে আববাস রা.-এর বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই।’-মাজাল্লাতুল জামিয়াতিস সালাফিয়্যা-আদিল্লাতুল হিজাব, শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইসমাঈল আলমুকাদ্দিম পৃ. ৩০১ আলোচিত নিবন্ধে সুনানে আবু দাউদের উদ্ধৃতিতে দু’ টো বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে : ‘‘হে আসমা! কোনো মেয়ে যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয় তখন এ অঙ্গ এবং এ অঙ্গ ব্যতীত আর কিছুই পরিদর্শন (!) বৈধ নয়। একথা বলে তিনি নিজের চেহারা আর করতলের দিকে ইঙ্গিত করেন। (সুনানে আবু দাউদ ৪/৬২) ‘‘তারপর মারাসিল গ্রন্থে রয়েছে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো কিশোরী যখন ঋতুস্রাবের মধ্য দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয় তখন তার চেহারা এবং কব্জি পর্যন্ত দুই হাত ছাড়া অন্য কিছু পরিদর্শন (!) বৈধ নয়।’ (আবু দাউদ, আলমারাসিল ৩১০ পৃ.)’’ এ দু’ বর্ণনার একটিও সহীহ নয়। প্রথম বর্ণনার সাথেই আবু দাউদ রাহ.-এর মন্তব্যও আছে, যা নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়নি। তিনি বলেছেন, ‘এর সূত্র (সনদ) বিচ্ছিন্ন।’ তাছাড়া এতে ‘সায়ীদ ইবনে বাশীর’ নামক একজন অগ্রহণযোগ্য রাবী আছে।বিশেষত কাতাদা রাহ. থেকে তার যে বর্ণনাগুলো, তা পরীক্ষা করে হাদীস বিশারদগণ বলেছেন, ‘এই ব্যক্তি কাতাদা থেকে অগ্রহণযোগ্য কথা বর্ণনা করে।’ আলোচ্য বর্ণনাও ঐসব বর্ণনারই একটি। এর মতন (বক্তব্য) ‘নাকারাত’ দোষে এবং সনদ (সূত্র) ‘ইযতিরাব’ দোষেও দুষ্ট। দেখুন : কিতাবুল ইলাল, ইবনে আবী হাতিম ১৪৬৩; আলকামিল, ইবনে আদী ৩/১২০৯; আন নাযার ফী আহকামিন নাযার, ইবনুল কাত্তান ১৬৭-১৬৮; তাফসীরুল কুরআনিল আজীম, ইবনে কাছীর ৩/৩১২; আলজাওহারুন নাকী, (সুনানে কুবরা বাইহাকীর সাথে মুদ্রিত) ৭/৮৬; আননাকদুল বান্না, আবু মুয়ায তারিক ইবনে আউযুল্লাহ পৃ. ২৮-৪০; দ্বিতীয় বর্ণনারও সনদ বিচ্ছিন্ন; বরং তা ‘মুদাল’। অর্থাৎ এ সনদে অন্তত দু’জন রাবী উহ্য রয়েছে। (দ্র. আননাযার, ইবনুল কাত্তান পৃ. ১৬৮-১৬৯; আদ দিরায়া, ইবনে হাজার ১২৩) তো এ জাতীয় দুর্বল ও পরিত্যাজ্য বর্ণনার ভিত্তিতে কোনো কথা আল্লাহর রাসূলের সাথে যুক্ত করা কি চরম অন্যায় নয়? এরপর আয়েশা রা.-এর যে উক্তি ইবনে আবী শাইবার উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, (‘নারীর যা প্রকাশিত থাকে তা হল তার চেহারা এবং করতলদ্বয়’) তা বায়হাকীতে আছে, কিন্তু তারও সনদ দুর্বল। (দ্র : আল জাওহারুন নাকী, সুনানে বায়হাকীর সাথে মুদ্রিত ২/২২৫-২২৬) ইবনে আবী শাইবার উদ্ধৃত স্থানে এ বর্ণনা আমরা পাইনি। যা পেয়েছি তাতে চেহারার কথা নেই। (দ্র. আলমুসান্নাফ, নিকাহ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ ১৪৩, হাদীস : ১৭২৮৭) এর বিপরীতে একাধিক সহীহ হাদীসে উম্মুল মুমিনীন থেকে মুখমন্ডল আবৃত রাখার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। আর ফযল ইবনে আববাস রা.-এর হাদীস দ্বারা সাধারণ অবস্থায় মুখ খোলা রাখার বিধান কীভাবে প্রমাণিত হয়? একে তো সেটা হজের সময়ের ঘটনা। দ্বিতীয়ত ঐ মেয়ে সম্পর্কে ঐ হাদীসেরই অন্যান্য বর্ণনায় আছে যে, তিনি ছিলেন বেদুঈন-তনয়া। উম্মুল মুমিনীন ও অন্যান্য বিজ্ঞ সাহাবিয়া, যারা আল্লাহর রাসূলের দীর্ঘ সান্নিধ্য পেয়েছেন এবং কুরআন-সুন্নাহর বিধান তাঁর নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন তাঁরা তো হজ্বের সময়ও পরপুরুষের সামনে মুখমন্ডল আবৃত রাখতেন! তো কুরআনের আয়াত, সহীহ হাদীস এবং উম্মুল মুমিনীন ও বড় বড় সাহাবিয়ার কর্মের বিপরীতে এরূপ একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দ্বারা, যার বিভিন্ন ব্যাখ্যা হতে পারে, একটি স্বীকৃত ও স্বতঃসিদ্ধ বিধানকে প্রত্যাখ্যান করা কীভাবে যুক্তিসঙ্গত হতে পারে? এরপর প্রচলিত চার মাযহাব সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘… শাফেয়ী, হাম্বলী এবং মালেকীদের মতে নারীরা চেহারা অনাবৃত রাখবে-এটাই সিদ্ধান্ত। বাকি আছে হানাফি মতাদর্শ। আমাদের উপমহাদেশের প্রায় সব মুসলমানই হানাফী মতাদর্শের অনুসারী। এ হানাফি মতাদর্শের দোহাই দিয়ে বলে থাকে, আমাদের এ মতাদর্শ অনুযায়ী অবশ্যক হল, নারীরা চেহারা ঢেকে ঘর থেকে বের হবে। অথচ এ বক্তব্যটির কোনো সত্যতা নেই। একটা বানোয়াট কথা। কিছু প্রমাণ হাজির করছি। …’ প্রমাণ হিসেবে হানাফী মাযহাবের বাদাইউস সানায়ে, আলমাবসূত ইমাম মুহাম্মাদ ও আলমাবসূত সারাখসী উদ্ধৃত করা হয়েছে। আগেও বলেছি, এ তথ্য সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। বাস্তবে নিবন্ধের দাবির সাথে উদ্ধৃত গ্রন্থসমূহের আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই। ঐসব গ্রন্থের কোথাও বলা হয়নি, অশ্লীলতা ও পাপাচারের ব্যাপক বিস্তারের যুগেও পাড়া-মহল্লা, বাজার-ঘাট, অফিস-আদালত সর্বত্র নারীরা মুখ খুলে বের হবেন, যেখানে ভালো-মন্দ, ভদ্র-বখাটে সব ধরনের লোকের অবাধ বিচরণ।ঐসব গ্রন্থে তো পর্দা-নেই এমন আত্মীয়ের ক্ষেত্রেও কামভাব সহকারে দৃষ্টিপাত অবৈধ বলা হয়েছে। এখানে চার মাযহাবের কিছু বিখ্যাত গ্রন্থের নাম উল্লেখ করছি, যেগুলোতে চেহারা আবৃত রাখার বিধান পরিষ্কার ভাষায় উল্লেখিত হয়েছে- হানাফী মাযহাব : আহকামুল কুরআন, আলজাসসাস ৩/৩৭১-৩৭২; ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৪০৭; আদ্দুররুল মুখতার (রদ্দুল মুহতারের সাথে), ৬/৩৭০; রদ্দুল মুহতার (ফতওয়া শামী) ১/৪০৬; আলবাহরুর রাইক ২/২৭০ মালেকী মাযহাব : আহকামুল কুরআন, ইবনুল আরাবী ৩/১৫৭৯; আলজামি লিআহকামিল কুরআন, কুরতুবী ১২/১১৫; আকরাবুল মাসালিক, আহমদ দরদীর ১/২৮৯; আরিজাতুল আহওয়াযী, ইবনুল আরাবী ৪/৫৬; মাওয়াহিবুল জলীল, হাত্তাব ২/১৮১; হাশিয়াতুদ দুসূকী, মুহাম্মাদ আদ দুসূকী ১/২১৪ শাফেয়ী মাযহাব : রওযাতুত তালেবীন ৭/২১; হাওয়াশিশ শিরওয়ানী ২/৩৩৩ হাম্বলী মাযহাব : আল আদাবুশ শরইয়্যা, ইবনু মুফলিহ ১/২৯৭; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ২/৩২৮; আলইনসাফ, মারদাভী ১/৪৫২ সর্বশেষ নিবেদন এই যে, শরীয়তের কোনো স্বীকৃত বিধান সম্পর্কে এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর পরিণাম খুবই ভয়াবহ। কিন্তু এ ভয়াবহ কাজই এখন ব্যাপকভাবে হচ্ছে। এজন্য দ্বীনদান ভাই-বোনের অবশ্য কর্তব্য, মিডিয়া ও প্রচার মাধ্যমগুলোর প্রচারিত যেকোনো কথায় প্রভাবিত না হওয়া। যেখানেই সংশয় জাগে সেখানেই কোনো বিজ্ঞ ও খোদভীরু আলিমের শরণাপন্ন হওয়া। আমাদের সকলকে আল্লাহর দরবারে হাজির হতে হবে এবং সকল কথা ও কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিতে হবে। লেখকদ্বয়ের জন্য শুভকামনা, আল্লাহ তাদের হেদায়েত দান করুন।

আমি নারী শিক্ষার বিপক্ষে নই, সহশিক্ষার বিপক্ষে : আল্লামা শাহ আহমদ শফী

হেফাজতে ইসলামের আমীর ও দারুল ইসলাম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, দেশে সহশিক্ষার কারণে অনেক গুনাহ হচ্ছে। এই কারণে দেশে শান্তি নেই। সহশিক্ষার কারণে দেশে শান্তি নয়, শুধু অশান্তিই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি সহশিক্ষার বিপক্ষে বলেছি কিন্তু অনেকে না বুঝে আমাকে নিয়ে বদনামি করছে। তারা বলছে যে, আমি নাকি মেয়েদেরকে লেখাপড়া করার জন্য বাধা দিচ্ছি। আমি মেয়েদের লেখাপড়ায় বাধা দিচ্ছি না। আমি ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে লেখাপড়ার বিপক্ষে বলছি। আমি সহশিক্ষার বিরুদ্ধাচরণ করছি। শুক্রবার বিকেলে হাটহাজারী মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্য তিনি আল্লামা শফী এসব কথা বলেন। পত্র-পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মাস্টাররাও ছাত্রীদের সঙ্গে কুকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন। সহশিক্ষায় মেয়েদের পোশাকও অনেকটা ছেলেদের মতো। সেখানে ছেলে-মেয়ে বন্ধুত্ব করছে, ঘোরাফেরা করছে- আরও কত কি করছে, তা আমার আর বলার দরকার নেই। এই সহশিক্ষার মাধ্যমে যে যিনা হচ্ছে, তাতে করে আপনাদের (অভিভাবক) ব্যবসায় কিভাবে উন্নতি হবে? সহশিক্ষার মাধ্যমে দেশে যে অনেক গুনাহ হচ্ছে, মহান আল্লাহ’র নাফরমানি হচ্ছে-আমি শুধু এই কথাই বলেছি। অথচ পত্রিকায় আমার নামে অন্যটা লিখে বদনামি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আজ মেয়েরা বোরকা পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায় না। তারা বোরকা ছিঁড়ে ফেলে। এত বড় গুনাহ যে দেশে চলছে সে দেশে অশান্তি না এসে কি শান্তি আসবে?!! অথচ আপনারা এগুলো নিয়ে কিছু বলছেন না। তিনি মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে আরো বলেন, সহশিক্ষার মাধ্যমে অনেক বড় বড় গুনাহ হচ্ছে। সৃষ্টিকর্তার নাফরমানি হচ্ছে। এজন্য দেশে শান্তি নেই। তাই আপনারা সহশিক্ষা করাবেন না। মহিলাদের জন্য আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সেখানে মহিলা শিক্ষক থাকবে। একইভাবে পুরুষদের জন্য আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেখানে পুরুষ শিক্ষক থাকবে- এভাবে লেখাপড়া করা যেতে পারে। এই কথাটাই আমি বললাম। আর এটা কেন বললাম এজন্য আমার উপর প্রশ্নের ওপর প্রশ্ন শুরু হয়েছে। তারা আমার কথা বোঝেন নাই। আমি বলি একটা আর তারা আমার উপর অপবাদ দেয় আরেকটা। সভায় তিনি দেশে চলমান বিভিন্ন ইস্যুতে মুসলিম উম্মাহকে দ্বীনি দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। একই দিন গত বছরের দাওরায়ে হাদীস উত্তীর্ণ দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে পাগড়ী সনদ প্রদান করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রখ্যাত ইসলামী ব্যক্তিত্ব আল্লামা আরশাদ মাদানীর সাহেবজাদা মাওলানা আযহারুল হাসান মাদানী। অন্যান্যদের মধ্যে জামিআর সিনিয়র মুহাদ্দিস ও সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মুহাদ্দিস মুফতী জসিমুদ্দীন, মাওলানা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, মাওলানা মুফতী আব্দুস সালাম, মাওলানা শেখ আহমদ, মাওলানা মুফতী কিফায়াতুল্লাহ, মাওলানা সাজেদুর রহমান, সহকারী শিক্ষাসচিব মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, মাওলানা হাফেয নূরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল বাছেত খান , মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা লোকমান, মাওলানা নোমান, মাওলানা সালাহ উদ্দীন, মাওলানা মুফতী শামসুদ্দীন জিয়া, মাওলানা মুফতী জসীম উদ্দীন, মাওলানা সলীম উল্লাহ, মাওলানা মুফতী আহমুদুল্লাহ, মাওলানা মুফতী মাহমুদুল হাসান, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা আযীযুল হক আলমাদানী, মওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী দা.বা., মাওলানা ইয়াহইয়া দা.বা., মাওলানা আবু আহমদ, মুফতী হুমায়ুন কবীর, মাওলানা ফোরকান আহমদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। – মুফতি সাঈদ আল হাসান

মসজিদে গমন ও করোনা ভাইরাস বিষয়ে আমাদের পরামর্শ

১) বাসা থেকে ওজু করে মসজিদে গমন করা।
২) আক্রান্ত বা প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশিত রোগীগণ মসজিদে গমন না করা।
৩) মসজিদকে সর্বদা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেষ্ট থাকা। জীবাণুমুক্ত রাখতে সচেতন থাকা।
৪) অন্যের টাওয়াল, গামছা ব্যবহার পরিহার করা।
৫) ফরজ নামায শেষে সুন্নতগুলো বাসায় আদায় করা।
৬) মসজিদে গমন করে অন্য মুসল্লিদের সাথে শারীরিক স্পর্শ এড়িয়ে চলা।
৭) বেশি বেশি তওবা ইস্তিগফার করা। রব্বে কারীমের কাছে এসব আযাব থেকে মুক্তির দুআ করা।
৮) মৃত্যু একদিন হবেই। তাই মৃত্যুর ভয়ে মসজিদ ত্যাগ নয়, বরং ইবাদতে মগ্ন হয়েই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা উচিত।

মরণঘাতী এ ভাইরাস আসার কারণ কি?

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: أَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: ” يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ خَمْسٌ إِذَا ابْتُلِيتُمْ بِهِنَّ، وَأَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ تُدْرِكُوهُنَّ: لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ، حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا، إِلَّا فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ، وَالْأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِي أَسْلَافِهِمُ الَّذِينَ مَضَوْا
আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বলেন: হে মুহাজিরগণ! তোমরা পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। তবে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন তোমরা তার সম্মুখীন না হও। যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারী আকারে প্লেগরোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৪০১৯]
হাদীস বলছে, যখন অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়বে, তখন মহামারী ছড়িয়ে পড়বে। এমন সব রোগ আসবে, ইতোপূর্বে যে রোগ সম্পর্কে মানুষ জানতো না।
দেখুন, এ রোগের উদ্ভব চীন থেকে। যেখানে রয়েছে যৌনতা ও অশ্লীলতার ছড়াছড়ি। ভয়ানক আকার ধারণ করেছে যতগুলো রাষ্ট্রে। সবগুলো রাষ্ট্রই যৌনতা ও অশ্লীলতার দায়ে দুষ্ট। সেখান থেকেই তা বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই আমাদের প্রথমে এসব ভয়াবহ মহামারী রোগের মূল উৎসকে বন্ধ করতে হবে।
যৌনতা ও অশ্লীলতার বিস্তৃতি বন্ধ করতে হবে। অর্ধনগ্ন বিলবোর্ড, অশ্লীল সিনেমা, পর্ণগ্রাফি ইত্যাদি বন্ধ করতে হবে। শালীন ও ভদ্র জীবনে ফিরে আসতে হবে। পরিবার ও সমাজকে একটি সুস্থ ও শালীন জীবন এবং পরিবেশ উপহার দিতে হবে।

বিবাহ বিচ্ছেদের প্রধান ১০ কারণ

মানুষের অন্যান্য সম্পর্কের মতই বৈবাহিক সম্পর্কও এমন একটি সম্পর্ক, যা শতভাগ নিখুঁত হওয়া সম্ভব নয়। এমনকি তীব্র ভালোবাসাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ দাম্পত্য সম্পর্কেও এটি আশা করা যায়না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সফল ও গভীর বৈবাহিক সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ় অঙ্গীকার এবং পারস্পারিক প্রত্যাশাকে প্রতিনিয়ত নিরীক্ষণ ও মূল্যায়ন করা।পাশাপাশি পারস্পারিক যোগাযোগের বিষয়টিও পরস্পরের খেয়াল রাখা  জরুরী। বলা সহজ হলেও বাস্তবে এই কাজ খুবই কঠিন।
বিভিন্ন ম্যারেজ থেরাপিস্ট এবং মুসলিম কাউন্সিলরদের সাথে কথা বলে আমি জানতে চেয়েছিলাম, বিবাহ-বিচ্ছেদের পেছনে তারা প্রধান প্রধান কি কারণ লক্ষ্য করেছেন। অবশ্যই বিভিন্ন জটিল সমস্যা তথা নৈতিক  পতন ও মাদকাসক্তির মত সমস্যাগুলো বিবাহ বিচ্ছেদের পেছনে দায়ী, কিন্তু এমন কিছু নগন্য সমস্যাও বিবাহ বিচ্ছেদের শীর্ষ কারণ হিসেবে রয়েছে, যা আশ্চর্যজনক। এখানে এরূপ দশটি কারণ উল্লেখ করা হল।

১. পরিবর্তনের চেষ্টা

অধিকাংশ দম্পতি একটি বড় সমস্যার মুখোমুখি হয় যে, একজন অপরজনের বিভিন্ন বিষয় অপছন্দ করে। এই অপছন্দ থেকে একজন অপরজনকে এমন অবস্থায় পরিবর্তন করতে চায়, যা সম্ভবপর হয়ে উঠেনা। পারস্পরিক এই পীড়াপীড়ির ফলে একজন আরেকজনের উপর বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট হয়ে উঠে।
আপনি চাইলেই আপনার সঙ্গীকে জোর করে রাতারাতি পরিবর্তন করে আপনার কাঙ্ক্ষিত নতুন মানুষে পরিণত করতে পারেন না। আপনি বরং আপনার নিজেকে পরিবর্তন করতে পারেন এবং আপনার সঙ্গীর ছোট ছোট কাজকে নিজের পছন্দমত ধীরে ধীরে সহমর্মিতার সাথে পরিবর্তন করতে পারেন।

২. কথাবার্তা বনাম যোগাযোগ

বর্তমানে বৈবাহিক সম্পর্কসমূহকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা অপর একটি বিষয় হচ্ছে দম্পতিদের এই ভুল ধারনা যে, পরস্পরের মধ্যে কথার আদান-প্রদানই যোগাযোগ। এরফলে তারা যখনই পরস্পর কথার আদান প্রদান করে, তখনই মনে করে তাদের মধ্যে যথার্থ যোগাযোগ হচ্ছে।
অভিযোগ বা সমালোচনায় কথার আদান-প্রদান করার মাধ্যমেই দম্পতির মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হয়না। অভিযোগ বা সমালোচনার পরিবর্তে ইতিবাচকতার সাথে আপনার অনুভূতিকে প্রকাশের কায়দা রপ্ত করুন। আপনার বৈবাহিক সম্পর্কের দৃঢ়তাকে তা বরং রক্ষা করবে।
যথার্থ যোগাযোগ শুধু নিজের মনোভাবকে সঙ্গীর কাছে প্রকাশ করা নয় বরং যথার্থ যোগাযোগের অর্থ হল নিজের সঙ্গীর মনোভাব সম্পর্কেও জ্ঞাত হওয়া এবং তার অনুধাবনকে অনুভব করতে পারা। যদি আমরা আমাদের বলার সাথে সাথে সমানভাবে শোনার অভ্যাস করতে পারি, আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কগুলো অনেকাংশেই ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

৩. সময় ব্যবস্থাপনা

আধুনিক জীবনযাত্রা বিভিন্ন দিক থেকেই অনেক চাপের সমন্বয়। এতসব চাপ সামাল দিতে গিয়ে অনেক দম্পতিই হয়তো তাদের নিজেদের মধ্যে সময় দিতে ব্যর্থ হয়।
প্রতিদিন পাঁচ মিনিট হলেও নিজেদের মধ্যে একান্তে কিছু সময় কাটানো প্রতিটি দম্পতির জন্য প্রয়োজন। বৈবাহিক সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে এটি আবশ্যিক একটি উপকরণ। নিজেদের সম্পর্ককে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে মূল্যয়ন করা প্রয়োজন যে, তার কি উন্নতি না অবনতি ঘটেছে অথবা তা একই অবস্থানে রয়েছে। নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ককে প্রতিদিন মূল্যয়নের জন্য তাই সকল দম্পতিরই পরস্পর নির্দিষ্ট একান্ত সময়ের প্রয়োজন। পরস্পরের একান্ত সময় কাটানোর মাধ্যমে দম্পতিসমূহের মধ্যে সম্পর্কের দৃঢ়তা প্রতিষ্ঠিত হয়।

৪. ঘনিষ্ঠতা

বিশিষ্ট গ্রন্থকার ও থেরাপিস্ট নাদিরাহ আনগেইল মনে করেন, ‘ঘনিষ্ঠতা’র অভাবে মূলত মুসলিমদের মধ্যকার বিবাহ-বিচ্ছেদের ঘটনাগুলো বেশী ঘটে। তিনি বলেন, “সহবাস ঘনিষ্ঠতার একটি ছোট অংশ মাত্র।” এটি মূলত দম্পতিসমূহের মধ্যকার গভীরতর সম্পর্ক। আধ্যাত্মিক, মানসিক, শারীরিক, আবেগগত ইত্যাদি সকল দিক থেকেই পরস্পরের মধ্যে সংযোগ থাকাই মূলত দম্পতিসমূহের মধ্যে পারস্পারিক ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি করে। এই ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখতে অধিকাংশ দম্পতিকে প্রচন্ড পরিশ্রম করতে হয়।
দম্পতিসমূহের জন্য ঘনিষ্ঠতা অর্জন কোন লক্ষ্য নয়, বরং এটি তাদের একত্রে জীবনের দীর্ঘসময় চলার জন্য একটি আবশ্যিক উপাদান।

৫. পরস্পরের প্রতি লক্ষ্য রাখা

সন্তান হওয়ার পর দম্পতিসমূহের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়, পরস্পরের প্রতি মনোযোগ ও লক্ষ্য রাখার প্রবণতার কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। ফলে অনেক সময় হয়তো নিজেদের মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। সন্তান জন্মের পরও সন্তানের পাশাপাশি পারস্পরিক মনোযোগ প্রদান বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তাছাড়া অনেকসময় দেখা যায়, নিজেদের মধ্যে সময় কাটানোর সময় সঙ্গীর প্রতি মনোযোগের পরিবর্তে আমরা বরং আমাদের স্মার্টফেনের স্ক্রিনে নতুন নোটিফিকেশন জানতে অধিক মনোযোগ দেই। সম্পর্কের দৃঢ়তাকে  ধ্বংস করতে এবং এর পরিণতিতে বৈবাহিক সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করার জন্য এধরনের ছোট ছোট অভ্যাসই যথেষ্ট।

৬. টাকা, টাকা, টাকা

জীবনে চলার জন্য অর্থ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু বর্তমানে বিবাহ বিচ্ছেদের পেছনে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি কারন হিসেবে রয়েছে। বৈবাহিক সম্পর্কের অবিশ্বস্ততায় বরং সেই সম্পর্ক টিকতে পারে, কিন্তু বিশ্বজুড়ে বৈবাহিক সম্পর্কসমূহকে নস্যাৎ করার জন্য অর্থ একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। নাদিরাহ বলেন, মুসলিম পরিবারগুলোও এর ব্যতিক্রম নয়। সামর্থ্যহীন পুরুষ ও নারীর সংসার বরং অধিক টিকে থাকে কিন্তু সংসারে স্বামী স্ত্রী যখন দুইজনই আয় করেন, তখন তাদের মধ্যে এক অলিখিত প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় কে বেশি আয় করেন। এই প্রতিযোগিতা থেকে পারস্পারিক রেষারেষি এবং শেষে বিবাহ-বিচ্ছেদের দিকে দাম্পত্য সম্পর্ক ধাবিত হয়।

৭. ক্ষমাহীনতা

পারস্পারিক ভালোবাসার সহজ সম্পর্কে ক্ষমাশীলতার অবস্থান হয় সহজ। ভুলের জন্য পাছে মর্যাদা কমে যায় এই আশংকায় সঙ্গীর কাছে ক্ষমা না চাওয়া এবং ছোট ছোট অপরাধেও সঙ্গীকে ক্ষমা করতে না পারার ফলে বরং দাম্পত্য সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আধুনিক এই সময়ে ক্ষমাহীনতার এই অভ্যাস দম্পতিসমূহের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের একটি বড় কারণ।

৮. প্রশংসার অভাব

যখন পারস্পারিক প্রশংসার হার কমে যায়, তখন পরস্পরের মধ্যে সংঘাত বৃদ্ধি পায়। প্রশংসার অভাব বৈবাহিক সম্পর্কে মধ্যে পারস্পারিক অবিশ্বাসের সৃষ্টি করে। কিন্তু যখন দুইজন মানুষ তাদের পারস্পারিক কাজের ১০০% মূল্যয়ন করবে এবং উত্তম কাজের জন্য সঙ্গীর প্রশংসা করবে, তখন তাদের মধ্যে সংঘাতের সম্ভাবনা খুব কমই থাকবে এবং তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

৯. আবেগগত সম্পর্ক

দক্ষিন আফ্রিকার দম্পতিসমূহের পরামর্শদানকারী সংস্থা ইসলামিক কেয়ার লাইন জানিয়েছে, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রসরতার ফলে ভার্চুয়াল জগতে বিভিন্ন প্রকার ভার্চুয়াল সম্পর্কে মানুষ জড়িয়ে পড়ছে। এসকল সম্পর্কে অনেকসময় মানুষ তার সঙ্গীর থেকে অধিক ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। এরফলে দম্পতিসমূহের পারস্পারিক সম্পর্ক বিবাহ বিচ্ছেদের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে এড়ানো যেতে পারে, যদি ব্যক্তি তার অনুভূতির কথা তার শুভাকাঙ্ক্ষী কারো কাছে শেয়ার করতে পারে এবং তার কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে নিজেকে অনাকাঙ্ক্ষিত আবেগ থেকে মুক্ত করতে পারে।

১০. ক্ষমতার দ্বন্দ্ব

ইসলামিক কেয়ার লাইনের সাথে কাজ করা একজন সমাজকর্মী আনিসা মুসা জানান, বিবাহিত দম্পতির মধ্যে পারস্পারিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ফলেও তাদের সম্পর্ক বিবাহ বিচ্ছেদের দিকে ধাবিত হয়। একজন অপরজনের উপর প্রভাব বিস্তার করতে চাওয়া এবং সঙ্গীকে নিজের মত করে চালাতে চাওয়ার ফলে দম্পতিসমূহের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়।
যদি নিজেদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্কের তুলনায় নিজের মতকে প্রতিষ্ঠা করার গুরুত্ব অধিক হয়, তবে দম্পতির মধ্যকার সম্পর্ক আর স্থায়ী হয়না এবং কারো মত যদিও প্রতিষ্ঠিত হয়, সেখানে আর ভালোবাসা থাকেনা।
উপরিউক্ত সমস্যাসমূহ যে সকলের ক্ষেত্রেই একইভাবে কাজ করে তা নয়, বরং এগুলো বিবাহবিচ্ছেদের কয়েকটি প্রধান সমস্যা হিসেবে সাধারনভাবে দেখা যাচ্ছে। নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ককে গভীর ও ভালোবাসা পূর্ণ দৃঢ় সম্পর্কে পরিণত করতে আমরা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সতর্ক হতে পারি। এর মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর জীবনে নিজেদের সঙ্গীর সাথে সুন্দর সময় কাটানোর মাধ্যমে পরকালীন জীবনেও সাফল্য অর্জন করতে পারি।